মঙ্গলে ফাটানো হবে পরমাণুবোমা !

পৃথিবীর অন্তিম সময় ধীরে
ধীরে এগিয়ে আসছে। মানবসভ্যতাকে
বাঁচিয়ে রাখতে হলে গ্রহান্তরে যাওয়া
ছাড়া গতি নেই। এমন ধারণার কথাই
শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর এরকম হলে
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এবং ন্যূনতম হলেও
বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তৈরি করা যেতে
পারে একমাত্র লালগ্রহ মঙ্গলে। আর সেই
লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা
নাসার বিজ্ঞানীরা।
এবার লালগ্রহ মঙ্গলকে বাসযোগ্য করে
তুলতে প্রযুক্তির দুনিয়ায় অন্যতম দিকপাল
এলোন মাস্ক এক অভিনব পরামর্শ
দিয়েছেন। ‘স্পেস এক্স’ রকেট কোম্পানির
স্রষ্টা এলোন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া
এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মঙ্গল
গ্রহকে বাসযোগ্য করে তুলতে গেলে
সেটাকে আরো গরম করে তুলতে হবে।
মঙ্গলের মাটির কাছাকাছি স্তরের
তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তবেই
মানুষের পক্ষে সেখানে বাস করা সম্ভব
হবে। আর সেজন্য সেখানে পরমাণু বোমা
বিস্ফোরণের পক্ষে মত দিয়েছেন এলোন।
এলোন বলেন, খুব তাড়াতাড়ি মঙ্গলের
আবহাওয়াকে গরম করে তা বাসযোগ্য করে
তুলতে চাইলে পরমাণু বোমা ফাটানোই
একমাত্র উপায়।
এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলে কীভাবে পরমাণু
বোমা নিয়ে পৌঁছনো সম্ভব হবে সে
ব্যাপারে অবশ্য এখনো কিছু জানাতে
পারেননি এলোন মাস্ক।
এলোন মাস্ক
তবে এলোনের এমন বক্তব্যের
প্রতিক্রিয়ায় কলোরাডো
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ব্রায়ান টুন
জানিয়েছেন, মঙ্গলকে পৃথিবীর মতো করে
তোলা সম্ভব। তবে তার জন্য অনেক বাধা
পেরুতে হবে। তবে বোমা ফেলে তা করার
ভাবনা মোটেও ভালো নয়।
এদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা
নাসা জানিয়েছে, মহাকাশে বিশেষ করে
সৌর জগতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায়
আমরাও বিশ্বাসী। তবে পরমাণু বোমার
কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
পেনসিলভেনিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিজ্ঞান বিভাগের ডিরেক্টর মাইকেল মন
জানিয়েছেন, পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ
করলে তার নিজস্ব সমস্যা তৈরি হতে
পারে। মঙ্গলের আবহাওয়া গরম হওয়ার
বদলে ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে। কারণ
বিস্ফোরণের পরে সেখানকার আকাশ ধুলা
ও ধোঁয়ায় ঢেকে যাবে। ফলে সূর্যের আলো
মাটি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। সেজন্যই
গরম হওয়ার চেয়ে আরো বেশি ঠাণ্ডা হয়ে
যেতে পারে লালগ্রহ মঙ্গল। যাকে
বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘নিউক্লিয়ার
উইন্টার’।

Related Posts
Previous
« Prev Post